Monday, April 7, 2025

বিষধর প্রাণীর ক্ষতি থেকে নিরাপত্তা



বিষধর প্রাণীর ক্ষতি থেকে নিরাপত্তা।


আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত।
🟤 নবী (সাঃ) বলেছেন, 
যে লোক সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে তিনবার বলে, 
اَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
“আল্লাহ তা’আলার নিকট আমি তার সম্পূর্ণ কালামের ওয়াসীলায় আশ্রয় প্রার্থনা করি, সে সকল অনিষ্ট হতে যা তিনি সৃষ্টি করেছেন", ঐ রাতে কোন বিষ তার অনিষ্ট করতে পারবে না। 

সুহাইল (রাহঃ) বলেন, 
আমার পরিবারের লোকেরা এই দুআ শিখে তা প্রতি রাতে পড়ত। একদিন তাদের একটি মেয়ে দংশিত হয়, কিন্তু তাতে সে কোন যন্ত্রণা অনুভব করেনি।

সহীহঃ 
তা’লীকুর রাগীব (১/২২৬), মুসলিম সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছেন।
সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস নং ৩৬০৪
হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস 
সোর্সঃ বাংলা হাদিস

তিন বার বিকালবেলা বলবে,
اَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ 
উচ্চারণ: 
আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্বা।
অর্থ: 
আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় আমি তাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই।

যে কেউ বিকাল বেলা এ দো‘আটি তিনবার বলবে, সে রাতে কোনো বিষধর প্রাণী তার ক্ষতি করতে পারবে না।

[আহমাদ ২/২৯০, নং ৭৮৯৮; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নং ৫৯০; ইবনুস সুন্নী, নং ৬৮; আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী ৩/১৮৭; সহীহ ইবন মাজাহ ২/২৬৬; তুহফাতুল আখইয়ার লি ইবন বায, পৃ. ৪৫।]

Friday, April 4, 2025

আপনি কি জানেন, ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ (জাযাকাল্লাহু খাইরান)-এর অর্থ কি?


❤️কাউকে "Thank you" বলার পরিবর্তে "জাযাকাল্লাহু খাইরান" বলুন 🌿🌿🌿


আপনি কি জানেন, ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ (জাযাকাল্লাহু খাইরান)-এর অর্থ কি?
এর বেশ সুন্দর কয়েকটি অর্থ রয়েছে।


১। ﺧﻴﺮ ( খাইর) শব্দটি সে সমস্ত বিষয়কে বুঝায় যা আল্লাহর নিকট প্রিয়। তাই "খাইর" শব্দের মাধ্যমে সবরকমের কল্যাণ কামনা করা হয়।
.
২। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে জান্নাত এবং জান্নাতে তাঁর দিদার দ্বারা সৌভাগ্যবান করুন।
.
৩। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে কাফিরদের স্থান জাহান্নাম থেকে হেফাজত করুন।
.
৪। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে সিরাতে মুস্তাক্বিম তথা সরল পথে পরিচালিত করেন।
.
৫। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার উপর কোন অভিশপ্ত শয়তানকে চাপিয়ে না দেন।
.
৬। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার রিজিকের মধ্যে বরকত দান করেন।
.
৭। "জাযাকাল্লাহু খইরন" অর্থঃ শেষ দিবস পর্যন্ত আল্লাহ যেন আপনাকে মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী করেন।
.
৮। "জাযাকাল্লাহু খইরন" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে রাসূলের সুন্নাতের অনুসারী করেন।
.
৯। "জাযাকাল্লাহু খইরন" অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে নেক সন্তান দান করুন।
.
১০। "জাযাকাল্লাহু খইরন" আল্লাহ আপনাকে সবরকম কল্যাণ দান করুন।

তবে আমরা বাক্যটির শাব্দিক অর্থ করি, "আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন" বলে।

Sunday, March 30, 2025

ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার নিয়ম ও নিয়ত




❤️ ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার নিয়ম ও নিয়ত ❤️


ঈদের নামাজ আদায় পদ্ধতি ::::


১। প্রথমত, স্বাভাবিক নামাজের মতোই তাকবিরে তাহরিমা বলে হাত বাঁধবেন। তারপর ছানা পাঠ করবেন।

২। তারপর অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলবেন। প্রথম দুই তাকবিরে হাত তুলে ছেড়ে দেবেন এবং তৃতীয় তাকবিরে হাত বেঁধে ফেলবেন।

৩। তারপর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ার পর ইমাম সুরা ফাতিহা পড়ে এর সঙ্গে অন্য একটি সুরা মেলাবেন।

৪। তারপর স্বাভাবিক নামাজের মতোই রুকু-সিজদা করে প্রথম রাকাত শেষ করবেন।

৫। দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম কিরাত পড়া শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিন তাকবির দেবেন। প্রতি তাকবিরের সঙ্গে হাত উঠাবেন এবং ছেড়ে দেবেন। তারপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকুতে চলে যাবেন।

৬। তারপর স্বাভাবিক নামাজের মতোই নামাজ শেষ করবেন।

৭। নামাজ শেষে ইমাম মিম্বারে উঠবেন। দুটি খুতবা দেবেন। এ সময় ইমামের খুতবা মনোযোগসহকারে শুনতে হবে। কোনো ধরনের কথা বলা বা অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়া যাবে না।

৮। খুতবা শেষে সবাই ঈদগাহ ত্যাগ করবেন।

ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত ::: 


(আরবি): নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রকয়াতাই সালাতিল ঈদিল ফিতর, মায়া ছিত্তাতি তাকবীরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তায়ালা ইকতাদাইতু বিহাযাল ইমাম, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত :::


(বাংলা): ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায় করছি।

Saturday, March 29, 2025

কিছু নির্দিষ্ট সময় রয়েছে, যেই সময়গুলোতে কোন প্রকার নামাজই আদায় করা যাবে না


১) কিছু নির্দিষ্ট সময় রয়েছে, যেই সময়গুলোতে কোন প্রকার নামাজই আদায় করা যাবে না। [মিশকাত- ১০৪০]


🔸 সূর্য উঠার পর আনুমানিক ১০-১৫ মিনিট, 

🔹 যোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বের ৪-৫ মিনিট, 

🔸 মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বের ৫-৬ মিনিট।

🔲 তবে যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসর নামাজের এক রাকাত পেল সে আসরের (পূর্ণ) নামায পেল। তাই কোনো দিন সঠিক সময়ে আসরের নামাজ আদায় করতে না পারলে আসরের শেষ সময়ে হলেও তা আদায় করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে নামাজ কাজা করা যাবে না। [নাসাঈ- ৫১৮]

২) আবার কিছু নির্দিষ্ট সময় রয়েছে, যেই সময়গুলোতে শুধুমাত্র নফল নামাজ আদায় করা যাবে না। যেমনঃ-


🔸 ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো ধরনের নফল নামাজ আদায় করা যাবে না। [সহীহ মুসলিম- ১১৮৫]

🔹 আসরের ফরজ নামাজ আদায় করার পর থেকে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্তও কোনো প্রকার নফল নামাজ আদায় করা যাবে না। [সহীহ বুখারী- ৫৮৮]

🔸 অনুরূপভাবে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হলে মাগরিবের নামাজের পূর্বেও কোনো প্রকার নফল নামাজ আদায় করা যাবে না। [সুনানে দারা কুতনী- ১০৪০]

⭕ উপরোক্ত সময়গুলো ব্যতীত অন্য যেকোনো সময়েই ফরজ, সুন্নত, ওয়াজিব, নফল এবং কাজা নামাজ আদায় করা যাবে ইন শা আল্লাহ 💝✅

Thursday, March 27, 2025

শবে কদরের বিশেষ দুআ এবং তা কখন কিভাবে পড়তে হয়? (সাথে একটি জরুরি জ্ঞাতব্য)

প্রশ্ন: শবে কদরের বিশেষ দুআ এবং তা কখন কিভাবে পড়তে হয়? (সাথে একটি জরুরি জ্ঞাতব্য)
▬▬▬▬◆◈◆ ▬▬▬▬

উত্তর: 

শবে কদর/লাইলাতুল কদরে রাত জেগে অধিক পরিমাণে নফল সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, দীনী ইলম চর্চা সহ বিভিন্ন ধরণের ইবাদত-বন্দেগীর পাশাপাশি বেশি বেশি দুআ করা উত্তম কাজ। আর সে সব দুআর মধ্যে নিম্নোক্ত দুআটি অধিক পরিমাণে পাঠ করা উচিৎ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মা আয়েশা রা. কে শিখিয়েছিলেন। 
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে তখন কোন দুয়াটি পাঠ করব? তিনি বললেন, তুমি বলবে,
اللَّهمَّ إنَّك عفُوٌّ تُحِبُّ العفْوَ، فاعْفُ عنِّي
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী।
“হে আল্লাহ, আপনি মার্জনা কারী। আপনি মার্জনা করা পছন্দ করেন। অত:এব আপনি আমাকে মার্জনা করুন।” (সহিহ ইবনে মাজাহ, হা/৩১১৯, সহিহুল জামে, হা/৪৪২৩,-শাইখ আলবানী, তাখরিজুল মুসনাদ (মুসনাদে আহমদ)-হা/২৫৪৯৫-শুআইব আরবানুত প্রমুখ)

⛔ জরুরি জ্ঞাতব্য:

সুনানে তিরমিযীর বর্ণনায়, عفُوٌّ ‘আফুউন শব্দের পরে كريمٌ কারীম’ শব্দটি রয়েছে। আর তিরমিযীর বরাতে অনেক আলেম (যেমন: ইমাম নওবী, ইবনে তাইমিয়া, ইবনে হাজার, ইবনুল কাইয়েম, ইবনে কাসির প্রমুখ মনিষীগণ) 
 এ দুআটি বর্ণনা করেছেন কিন্তু তারা ‘কারীম’ শব্দটি উল্লেখ করেন নি। 

 আর শাইখ আলবানী রহ. প্রথম পর্যায়ে এটিকে সহিহ বলেছিলেন। কিন্তু তার পরবর্তী গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ‘কারীম’ শব্দটির কোন ভিত্তি নাই। তাই তিনি মত পরিবর্তন করেছেন।

তিনি বলেন:

 (تنبيه): وقع في سنن الترمذي بعد قوله: "عفو" زيادة: "كريم" ولا أصل لها في شيء من المصادر المتقدمة، ولا في غيرها ممن نقل عنها، فالظاهر أنها مدرجة من بعض الناسخين أو الطابعين
“সতর্ক বাণী:
সুনানে তিরমিযীতে عفو (আফুউন) শব্দের পরে كريم (কারীম) শব্দটি এসেছে। কিন্তু পূর্ববর্তী কোন হাদিসের মূল উৎস গ্রন্থ বা সেগুলো থেকে যে সব কিতাবে তা নকল করা হয়েছে সেগুলোতে এর কোনই ভিত্তি পাওয়া যায় না। সুতরাং এটি স্পষ্ট হয় যে, যারা তিরমিযীর হাদিস নুসখা (কপি) করেছে বা মুদ্রণ করেছে তাদের কারো পক্ষ থেকে এ শব্দটি সংযোজিত।” (সিলসিলা সাহীহাহ)
আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।

🔹 এ দুআটি কখন কিভাবে পাঠ করতে হয়?

উক্ত দুআটি সিজদা অবস্থায়, দুআ কুনুতে, নামাযের বাইরে হাত তুলে দুআ/মুনাজাত করার সময় এবং সাধারণভাবে বসা অবস্থায়, চলা-ফেরা করার সময় বা কাজের ফাঁকে-ফাঁকে অধিক পরিমাণে পাঠ করা যায়। আল্লাহ তাওফিক দান করুন।
▬▬▬▬◆◈◆ ▬▬▬▬

Wednesday, March 26, 2025

স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার ফজিলত: দুনিয়া থেকে জান্নাত পর্যন্ত

            


💞 স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার ফজিলত: দুনিয়া থেকে জান্নাত পর্যন্ত 💞


📖 কুরআনের আলোকে:


🔹 আল্লাহ তাআলা বলেন:
❝আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।❞
📚 (সুরা আর-রূম: ২১)

➡ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কেবল দুনিয়ার জন্য নয়, বরং এটি জান্নাত পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

📜 হাদিসের আলোকে:


🔹 রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
❝যদি কোনো স্ত্রী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে, নিজের সতীত্ব রক্ষা করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, তাহলে তাকে বলা হবে: জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা, তুমি প্রবেশ করো।❞
📚 (মুসনাদ আহমাদ: ১৬৬৪)

🔹 তিনি আরও বলেছেন:
❝দুনিয়ায় যে স্ত্রী তার স্বামীর সন্তুষ্টি নিয়ে মারা যায়, সে জান্নাতে যাবে।❞
📚 (সুনান তিরমিজি: ১১৬১)

🔹 স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার পুরস্কার:
❝কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার স্ত্রীর মুখে খাবার তুলে দেয়, তবে সেটিও তার জন্য সাদকা (দান) হিসেবে গণ্য হয়।❞
📚 (সহিহ বুখারি: ২৫৯২)

💖 জান্নাতে স্বামী-স্ত্রীর মিলন 💖


🔹 আল্লাহ তাআলা বলেন:
❝যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আমি অবশ্যই তাদের জান্নাতের উচ্চস্থানে প্রবেশ করাব, যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে এবং তারা হবে পবিত্র সঙ্গীসহ।❞
📚 (সুরা আনকাবুত: ৫৮)

🔹 অন্য আয়াতে এসেছে:
❝তারা ও তাদের স্ত্রীদেরকে আমি জান্নাতের ছায়ায়, সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করব।❞
📚 (সুরা ইয়াসিন: ৫৬)

➡ এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে, স্বামী-স্ত্রী যদি একসঙ্গে ইসলামের বিধান মেনে চলে, তবে আল্লাহ তাদের জান্নাতে পুনরায় মিলিয়ে দেবেন।

✅ করণীয়:


✔ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া রাখা
✔ একজন অন্যজনের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা
✔ দুনিয়াতে একে অপরকে ইসলামের পথে চালিত করা, যাতে জান্নাতেও একসঙ্গে থাকতে পারি

🔸 আসুন, আমরা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ইসলামের আলোকে সুন্দর করি, যাতে দুনিয়া ও আখিরাতে সুখী হতে পারি!

🔄 শেয়ার করে অন্যদের উৎসাহিত করুন।

Tuesday, March 25, 2025

ফরজ নামাজ আদায় করার পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুন্নত আমল


⭕ ফরজ নামাজ আদায় করার পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুন্নত আমলসমূহ নিম্নে উপস্থাপণ করা হলো। তাই ফজিলতপূর্ণ এই আমলগুলো আপনারা সকলেই নিয়মিত আমল করার চেষ্টা করবেন ইন শা আল্লাহ 💝✅


🔸 ১ বার “আল্ল-হু আকবার” পাঠ করা। [বুখারী- ৮৪২]

🔹 ৩ বার “আস্তাগফিরুল্ল-হ” পাঠ করা। [মুসলিম- ১৩৬২]

🔸 ১ বার “আল্ল-হুম্মা আংতাস সালাম, ওয়া মিনকাস্ সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইক্বরম”
পাঠ করা। [মুসনাদে আহমাদ- ২২৪৬১]

🔹 ১ বার “আয়াতুল কুরসী” পাঠ করা। [নাসাঈ- ৯৮৪৮]

🔸 “সুবহা-নাল্ল-হ” “আলহামদুলিল্লাহ” “আল্ল-হু আকবার” ৩৩+৩৩+৩৩ বার পাঠ করে, ১ বার “লা ইলাহা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া 'আলা কুল্লি শাইইন ক্বদীর” পাঠ করা। [সহীহ মুসলিম- ১৩৮০]

🔹 ফজর এবং মাগরিবের ফরজ নামাজের পর ৭ বার “আল্ল-হুম্মা আজিরনী মিনান্না-র” পাঠ করা। [সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ- ৯৮৫৯]

🔸 ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর ৩ বার “আঊযুবিল্লাহিস সামি'য়্যিল 'আলীমি মিনাশ শাইত্ব-নির রজীম” পাঠ করে, “সূরা হাশরের” শেষ ৩ আয়াত পাঠ করা। [সুনানে তিরমিযি- ১৩৭২]

🔹 ফজর নামাজ আদায় করার পর ৩ বার পাঠ করা, “সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী 'আদাদা খলক্বিহী, অরিদ্ব- নাফসিহী অযিনাতা 'আরশিহী, অমিদা-দা কালিমা-তিহ্”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২৭২৬]

🔸 ফজর নামাজ আদায় করার পর ৩ বার “আল্ল-হুম্ম ইন্নি আসআলুকা, 'ঈলমান না-ফি'য়ান, ওয়া রিজক্বন ত্বয়্যিবান, ওয়া 'আমালান মুতাক্বব্বালা” পাঠ করা। [ইবনে মাজাহ- ৯২৫]

🔹 প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একাধিকবার পাঠ করা “আল্ল-হুম্মা আ'ইন্নি 'আলা জিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি 'ইবাদাতিক। [আবু দাউদ- ১৫২২]

🔸 ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পরে ৩ বার “রদ্বীনা- বিল্লা-হি রব্বা-, ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনা- ওয়াবি মুহাম্মাদিন রসূলা- [ﷺ]” পাঠ করা। [সুনানে আবু দাউদ- ৫০৭৪]

🔹 ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর ১ বার “সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার” পাঠ করা। [মিশকাত- ২৩৩৫]

🔲 “আল্ল-হুম্মা আংতা রব্বী, লা- ইলাহা ইল্লা আংতা খলাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুক, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্ব‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিং শার্রিমা ছনা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ লাকা বিযাম্বী, ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা- ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আংত্”।

⭕ জিনের আছর, বদনজর, কু-ফ-রী কালাম, জাদু টোনা এবং বিষধর প্রাণীর ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে রাসূল সল্লল্লহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর নিম্নোক্ত দোয়াগুলো পাঠ করতেন।

🔸 সূরা “ইখলাস”, “ফালাক” এবং “নাস” ১ বার করে পাঠ করা। তবে ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর প্রতিটি সূরা ৩ বার করে পাঠ করা। [আবু দাউদ- ১৫২৩]

🔹 ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর ৩ বার পাঠ করা “আ'উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মা-তি, মিং- শাররি মা খলাক্ব”। [তিরমিযি- ৩৫৫৯]

🔸 ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর ৩ বার পাঠ করা, “বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা- ইয়াদুররু মা'আসমিহী, শাইউং ফিল আরদ্বী ওয়ালা- ফিসসামা-ই, ওয়াহুওয়াস সামি'উল 'আলীম”। [তিরমিযি- ৩৩৩৫]

🔹 ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর ৭ বার পাঠ করা “হাসবিয়াল্ল-হু লা- ইলা-হা ইল্লাহু, 'আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়াহুয়া রব্বুল 'আরশীল 'আউযীম”। [আবু দাউদ- ৩২১]

⭕ [ ' ] এই চিহ্নটি দ্বারা আরবী হরফ “আইনের” উচ্চারণ উদ্দেশ্য। তাই এই চিহ্নের জায়গাগুলোতে গলার ভিতর থেকে “আইনের” উচ্চারণ করতে হবে। আর [ - ] এই চিহ্নটি দ্বারা ১ আলিফ টান দিয়ে পড়াকে বুঝানো হয়েছে।

🔲 মহান আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সবাইকে নিয়মিত আমলগুলো করার তৌফিক দান করুন, আমিন 💞✅

Monday, March 24, 2025

লাইলাতুল কদরের তিনটি বৈশিষ্ট্য:

লাইলাতুল কদরের তিনটি বৈশিষ্ট্য:


১. এ রাতে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাযিল করা হয়েছে।

২. এ রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

৩. এ রাতে হযরত জিবরাঈল আ. ফেরেশতাদের এক দলসহ জমিনে অবতরণ করেন।

সূরা কদরে আল্লাহ তাআলা এ তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনে আবী হাতেম রাযি. থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. একবার বনী ইসরাঈলের জনৈক মুজাহিদ সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন যে, সে এক হাজার মাস পর্যন্ত অবিরাম জিহাদে মশগুল থাকে এবং কখনো অস্ত্র সংবরণ করেনি। সাহাবায়ে কেরাম একথা শুনে কিছুটা ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন। এর কারণ, তাঁরা চিন্তা করলেন আমরা শেষ যামানার নবীর উম্মত। আমাদের গড় আয়ু ষাট-পয়ষট্টি বছর। আর আগের উম্মতেরা একাধারে জিহাদের মত গুরুত্বপূর্ণ আমলই করেছে এক হাজার মাস। আমরা বেশি হায়াত লাভ করলে বেশি বেশি ইবাদত করতে পারতাম। আল্লাহ এই উম্মতের উপর কত মেহেরবান! সাথে সাথে হযরত জিবরাঈল আ.-কে সূরা কদর দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। হযরত জিবরাঈল হাজির হয়ে রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট পায়গাম পৌঁছিয়ে দিলেন:

إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ

"নিশ্চয় আমি এ কুরআনকে লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি।"

ততক্ষণ পর্যন্ত লাইলাতুল কদর সম্পর্কে না নবী কিছু জানেন, না সাহাবায়ে কেরাম। আল্লাহ ঘোষণা করলেন, আমি এ কুরআনকে লাইলাতুল কদরে নাযিল করেছি।

লাইলাতুল কদরের ফযীলত বুঝার জন্য এ একটি আয়াতই যথেষ্ট। কারণ, এ রাতে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাযিল করা হয়েছে। আল-কুরআন সম্পর্কে হাদীছে আছে:

الْقُرْآنُ أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنَ السَّمَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ

(دارمی، فضائل القرآن فضل كلام الله على سائر الكلام، ٥٣٤/٢، رقم : ٣٣٥٨)

"আসমান জমিন এবং এদুয়ের মাঝে যা কিছু আছে এসব কিছু থেকে কুরআনই হলো আল্লাহ'র কাছে অধিক প্রিয়।"

ঐ/লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আগ্রহী

হওয়ার জন্য আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন: وَمَا أَدْرَى كَمَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ

"আপনি (মুহাম্মাদ সা.) কি জানেন, লাইলাতুল কদর কী জিনিস?"

রাসূলুল্লাহ তখনও লাইলাতুল কদরের সাথে পরিচিত নন। তারপরও তাঁকে জিজ্ঞেস করার অর্থ হলো অধিক আগ্রহ সৃষ্টি করা। তাই জিজ্ঞেস করার সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা এর কয়েকটি ফযীলত বর্ণনা করলেন:

۵. لَةَ القَدَر خَيْرٌ مِنْ اَلْفِ شَهْر "লাইলাতুল কদর হাজার মাস থেকে উত্তম।" বনী ইসরাঈলের সে আবেদের কথা শুনে মুসলমানদের মনে ইবাদতের যে আগ্রহ জমেছিল, যে বঞ্চনাবোধের সৃষ্টি হয়েছিল আল্লাহ তার সমাধান দিয়ে বললেন, লাইলাতুল কদর হাজার মাস থেকে উত্তম। অর্থাৎ, হাজার মাস একাধারে ইবাদতে কাটালে যে সওয়াব, এ এক রাতের ইবাদতে তার চেয়ে বেশি সওয়াব। আর এই বেশির পরিমাণ যে কত, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।

এখন কারো ভাগ্যে যদি এমন দশটি রাত জুটে যায়। অর্থাৎ, দশটি বছর যদি কেউ এমন রাত পেয়ে যায়, আর তিনি এ রাতসমূহে ইবাদতে মশগুল থাকেন বা দান সদকা করেন, তাহলে তার অর্থ হলো তিনি হাজার বছরের বেশী সময় ইবাদতে কাটাবার সওয়াব লাভ করেছেন।

২. এ রাতের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো:

تَنَزَّلُ الْمَلئِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ -

"এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফেরেশতাগণ ও হযরত জিবরাঈল আমীন তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে অবতীর্ণ হন। গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে এখানে তাকদীর সংক্রান্ত বিষয় বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, এ রাতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাগণের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু, রিযিক, বৃষ্টি ইত্যাদির পরিমাণ নির্দিষ্ট ফেরেশতাগণকে লিখে দেয়া হয়। 

হযরত জিবরাঈল আমীন ফেরেশতাদেরকে নিয়ে কেন আসেন, কী করেন, হাদীছে এর বিবরণ এভাবে এসেছে:

إِذَا كَانَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ نَزَلَ جِبْرَائِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِي كَبُكَبَةٍ مِنَ الْمَلِئِكَةِ يُصَلُّونَ

عَلَى كُلِّ عَبْدٍ قَائِمٍ أَوْ قَاعِدٍ يَذْكُرُ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ - (شعب الايمان للبيهقي، رقم: ۳۷۱۷)

"রাসূল কারীম সা. ইরশাদ করেন, লাইলাতুল কদর উপস্থিত হলে হযরত জিবরাঈল আ. একদল ফেরেশতাসহ পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং এ রাতে যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কিংবা বসে আল্লাহ'র যিকরে মশগুল থাকে তাদের জন্য দু'আ করতে থাকেন।"

অন্য হাদীছে আরও বিস্তারিত এসেছে যে, এ রাতে হযরত জিবরাঈল আমীন ফেরেশতাদের এক বিরাট জামা'আত নিয়ে জমিনে অবতরণ করেন। তাদের সঙ্গে সবুজ রঙের একটা ঝাণ্ডা থাকে যা কা'বা শরীফের উপর উড্ডীন করে দিয়ে ফেরেশতাগণ পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়েন এবং আল্লাহ'র বান্দা-বান্দীরা যে যেখানে যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে বসে আল্লাহ'র ইবাদতে মশগুল থাকে, দু'আ করে, তাদেরকে তাঁরা সালাম করে, তাঁদের সাথে মুসাফাহা করে এবং তাঁদের দু'আয় আমীন, আমীন বলতে থাকে।

৩. এ রাতের তৃতীয় ফযীলত আর বৈশিষ্ট্য হলো: এ অর্থাৎ, এ রাত শান্তিই শান্তি, মঙ্গলই মঙ্গল। এতে অনিষ্টের কোন নাম-নিশানা নেই। আল্লাহ বলেন : هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ অর্থাৎ, সুবহে সাদেক পর্যন্ত এ অবস্থা বহাল থাকে।

এর দ্বারা বুঝা গেল যে, লাইলাতুল কদরের ফযীলত এবং বরকত সুবহে সাদেক পর্যন্ত বাকী থাকে। এখন দেখা যায় কিছু লোক ফজরের নামাযে এসে বসে থাকে যে, ফজরের পর হুযূর দীর্ঘক্ষণ দু'আ করবেন আর আমরা আমীন, আমীন বলবো, এতেই লাইলাতুল কদর হয়ে যাবে। অনেক মসজিদে এ রকম দেখা যায় যে, ইমাম সাহেবগণ ফজরের নামাযান্তে মুসল্লীদের নিয়ে লম্বা লম্বা মুনাজাত করেন, এটা ঠিক নয়। কারণ এ মুনাজাত কিসের? যদি লাইলাতুল কদরের জন্য হয়ে থাকে, তা হলে তা তো চলে গেছে সুবহে সাদেক হওয়ার সাথে সাথেই। ফজরের আযান হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে লাইলাতুল কদর শেষ হয়ে গেছে। সুতরাং দু'আ, মুনাজাত, ইবদাত-বন্দেগী যা করার তা ফজরের আগেই শেষ করতে হবে। ফজরের নামাযের পরে লম্বা দু'আর কোন ফযীলত নেই; বরং সারারাত যারা ইবাদতে কাটিয়েছেন, এ দীর্ঘ মুনাজাত দিয়ে তাদের উপর জুলুম করা হয়। এটা জাহালতের কারণে হয়ে থাকে।

যাই হোক, এ মহামূল্যবান রাতকে আল্লাহ তাআলা তাঁর বিশেষ হিকমাতের কারণেই অনির্দিষ্ট রেখেছেন। এ হিকমাত সম্পর্কে উলামায়ে কেরাম কয়েকটি মতামত ব্যক্ত করেছেন।

. লাইলাতুল কদর নির্দিষ্ট করে দিলে একশ্রেণীর লোক সারা বছর ঐ একটি মাত্র রাতের অপেক্ষায় থাকতো। মনে করতো, এখন যা করার করি-লাইলাতুল কদর আসলে ইবাদত করবো। তাতে সব গুণাহ মাফ হয়ে যাবে। অথচ এ রাত পর্যন্ত সে জীবিত থাকবে কি-না, তা সে জানে না। এভাবে সে লাইলাতুল কদরের অপেক্ষায় থেকে বঞ্চিত থাকতো।

২. এ রাত যদি সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত করে দেয়া হতো, তা হলে এ রাতের যথাযথ মর্যাদা দানে ব্যর্থ ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহ'র আযাব অবধারিত হয়ে পড়তো।

৩. এ রাত অনির্দিষ্ট রাখার অন্যতম হিকমাত হলো, লাইলাতুল কদর খুঁজতে গিয়ে বান্দা যেন এ মাহে রমাযানে একটু বেশি বেশি নেক আমালে মশগুল হতে পারে।

তবে লাইলাতুল কদর অনির্দিষ্ট হলেও আমাদের জন্য অনেকটাই নির্দিষ্ট। কেননা, লাইলাতুল কদর সাধারণত রমাযান মাসেই হয়ে থাকে। তা হলে বাকি এগারো মাস থেকে নির্দিষ্ট হয়ে গেল একমাস। এক মাসের মধ্যে আবার শেষ দশকেই হওয়া নির্দিষ্ট। তা হলে আরো সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। এরপর এ দশ দিনের মধ্যে আবার বেজোড় রাত্রে হওয়া নির্দিষ্ট। তা হলে আমরা লাইলাতুল কদরকে অনেকটা নির্দিষ্টই বলতে পারি। একটু সদিচ্ছা থাকলেই আমরা সবাই লাইলাতুল কদর পাবো। ইনশাআল্লাহ!

লাইলাতুল কদরে পড়ার দু'আ

রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন:

تَحَرُّوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمْضَانَ البخاري، الصوم / تحرى ليلة القدر ۲۷۰/۱ رقم: ۲۰۱۷)

"তোমরা রমাযানের শেষ দশকে বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ কর।"

মা আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা যদি লাইলাতুল কদর পাই তা হলে কী করবো? উত্তরে রাসূলুল্লাহ সা. বললেন:

قُولِي اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي (سنن الترمذي، الدعوات / رقم الباب ٨٥, ١٩١/٢ رقم (٣٥١٣)

হে আল্লাহ! তুমি পরম ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাকে তুমি পছন্দ কর, কাজেই তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।"

লাইলাতুল কদরের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো গুনাহ মাফ হওয়া। রাসূলে কারীম সা. ইরশাদ করেন:

مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

(البخاري، الصوم من صام رمضان ايمانا واحتسابا ٢٥٥/١, رقم: ١٩٠١)

“যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে আল্লাহ'র উপর বিশ্বাস রেখে পুণ্যের আশায় ইবাদত করে, তার পূর্বের কৃত সমস্ত পাপ মাফ করে দেয়া হয়।” আর লাইলাতুল কদরকে এ কারণেই লাইলাতুল কদর করে নামকরণ করা হয়েছে যে, আমল না করার কারণে ইতোপূর্বে যার কোন মান-সম্মান ছিল না সেও এ রাতে ইবাদত-বন্দেগী, তাওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে সম্মানিত হয়ে যায়।

Thursday, March 20, 2025

লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করার বিজোড় রাত সমূহঃ-


🔲 লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করার বিজোড় রাত সমূহঃ-


🔸 ২১ তম রাত্রি - ২১ শে মার্চ  - শুক্রবার [দিবাগত রাত]

🔹 ২৩ তম রাত্রি - ২৩ শে মার্চ - রবিবার [দিবাগত রাত]

🔸 ২৫ তম রাত্রি - ২৫ শে মার্চ - মঙ্গলবার [দিবাগত রাত]

🔹 ২৭ তম রাত্রি - ২৭ শে মার্চ - বৃহঃবার [দিবাগত রাত]

🔸 ২৯ তম রাত্রি - ২৯ শে মার্চ - শনিবার [দিবাগত রাত]

⭕ দিবাগত রাত মানে হচ্ছে দিন শেষে যেই রাতটি আসে।

আরবী মাসের দিন শুরু হয় রাতের মাধ্যমে অর্থাৎ প্রথমে রাত আসে, এরপরে দিন। উদাহরণস্বরূপঃ- আগামীকাল যদি ২৫ তম রোজা হয়ে থাকে, তাহলে ২৫ তম রোজার রাতটি শুরু হবে আজকে মাগরিব থেকে। অর্থাৎ ২৪ তম রোজার দিন শেষ হয়ে যেই রাতটি আসবে সেই রাতটিই হচ্ছে ২৫ তম রোজার রাত 💝✅

🔲 রাসূল সল্লাল্ল-হু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'য়ালার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে সওয়াবের আশায় ক্বদরের রাত্রিতে জাগ্রত থেকে ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে রাত্রি যাপন করবে, মহান আল্লাহ তা'য়ালা তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ্‌ সমূহ ক্ষমা করে দিবেন। [বুখারী- ৩৫]

⭕ আয়িশাহ (র.) বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি যদি ক্বদরের রাত পেয়ে যাই তাহলে আমি কোন দু'আটি পাঠ করবো.? তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, তুমি পাঠ করবে-

« اللَّهمَّ إنَّك عفُوٌّ كريمٌ تُحِبُّ العفْوَ، فاعْفُ عنِّي »

উচ্চারণঃ- “আল্ল-হুম্মা ইন্নাকা 'আফু'উন কারীম, তুহি্ব্বুল 'আফওয়া ফা'ফু 'আন্নী”

অর্থঃ- “হে আল্লাহ, আপনি পরম ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন।” 
[তিরমিযী- ৩৬১৩, ইবনে মাজাহ- ৩৮৫০]

🔲 অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি দোয়া, দোয়াটি ক্বদরের রাত ব্যতীত অন্য যেকোনো সময়ও ইস্তিগফার হিসেবে পাঠ করা যাবে। তাই আমাদের যাদের দোয়াটি মুখস্থ নেই, তারা এখুনি দোয়াটি মুখস্থ করে নিবো ইন শা আল্লাহ.. 💝✅

Tuesday, March 18, 2025

একটি শিক্ষামূলক গল্প: "ভরসা যাকে বলে"



একটি শিক্ষামূলক গল্প: "ভরসা যাকে বলে"

রিয়াদ ছিল এক সাধারণ যুবক, জীবনের বোঝা তার কাঁধে যেন দিন দিন ভারী হয়ে উঠছিল। সংসারের দায়িত্ব, চাকরির চাপ, মানুষের প্রত্যাশা — সব মিলিয়ে সে ভীষণ ক্লান্ত। একদিন বন্ধু নাফিসকে সে বলল, "আমি আর পারছি না ভাই, জীবনটা বড় কঠিন!"

নাফিস মুচকি হেসে বলল, "তোর সমস্যার সমাধান আছে। চল, আজ তোরে এক জায়গায় নিয়ে যাই।"

ওরা দু'জনে মসজিদে গেল। নাফিস বলল, "আজ আল্লাহর কাছে মন খুলে দোয়া কর। তাঁর কাছে সব কিছু বল।"

রিয়াদ নামাজ পড়ে, সিজদায় গিয়ে কাঁদতে লাগল। আল্লাহর কাছে নিজের কষ্ট, দুঃখ, দায়িত্ব সব কিছু উজাড় করে দিল। সে যেন হালকা হয়ে গেল।

মসজিদ থেকে বেরিয়ে নাফিস বলল, "ভাই, আল্লাহ কখনো কারও সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। যে ভার তুই বহন করছিস, সেটা বহনের শক্তি তোকে তিনিই দিয়েছেন। এখন থেকে তুই শুধু চেষ্টা করবি, বাকিটা আল্লাহর উপর ভরসা রাখবি।"

📖 "আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।" — (আল-বাকারাহ ২:২৮৬)

🌱 শিক্ষণীয়:
আমাদের জীবনের প্রতিটি পরীক্ষা, কষ্ট আর দায়িত্ব — সবকিছুই আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে। আল্লাহ জানেন আমরা কতটা নিতে পারি। তাই কখনো হতাশ হবেন না, আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।

.

Monday, March 17, 2025

ফরজ নামাজ আদায় করার পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুন্নত আমল

 

⭕ ফরজ নামাজ আদায় করার পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুন্নত আমলসমূহ নিম্নে উপস্থাপণ করা হলো। তাই ফজিলতপূর্ণ এই আমলগুলো আপনারা সকলেই নিয়মিত আমল করার চেষ্টা করবেন ইন শা আল্লাহ 💝✅
🔸 ১ বার “আল্ল-হু আকবার” পাঠ করা। [বুখারী- ৮৪২]
🔹 ৩ বার “আস্তাগফিরুল্ল-হ” পাঠ করা। [মুসলিম- ১৩৬২]
🔸 ১ বার “আল্ল-হুম্মা আংতাস সালাম, ওয়া মিনকাস্ সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইক্বরম”
পাঠ করা। [মুসনাদে আহমাদ- ২২৪৬১]
🔹 ১ বার “আয়াতুল কুরসী” পাঠ করা। [নাসাঈ- ৯৮৪৮]
🔸 “সুবহা-নাল্ল-হ” “আলহামদুলিল্লাহ” “আল্ল-হু আকবার” ৩৩+৩৩+৩৩ বার পাঠ করে, ১ বার “লা ইলাহা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া 'আলা কুল্লি শাইইন ক্বদীর” পাঠ করা। [সহীহ মুসলিম- ১৩৮০]
🔹 ফজর এবং মাগরিবের ফরজ নামাজের পর ৭ বার “আল্ল-হুম্মা আজিরনী মিনান্না-র” পাঠ করা। [সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ- ৯৮৫৯]
🔸 ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর ৩ বার “আঊযুবিল্লাহিস সামি'য়্যিল 'আলীমি মিনাশ শাইত্ব-নির রজীম” পাঠ করে, “সূরা হাশরের” শেষ ৩ আয়াত পাঠ করা। [সুনানে তিরমিযি- ১৩৭২]
🔹 ফজর নামাজ আদায় করার পর ৩ বার পাঠ করা, “সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী 'আদাদা খলক্বিহী, অরিদ্ব- নাফসিহী অযিনাতা 'আরশিহী, অমিদা-দা কালিমা-তিহ্”। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২৭২৬]
🔸 ফজর নামাজ আদায় করার পর ৩ বার “আল্ল-হুম্ম ইন্নি আসআলুকা, 'ঈলমান না-ফি'য়ান, ওয়া রিজক্বন ত্বয়্যিবান, ওয়া 'আমালান মুতাক্বব্বালা” পাঠ করা। [ইবনে মাজাহ- ৯২৫]
🔹 প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একাধিকবার পাঠ করা “আল্ল-হুম্মা আ'ইন্নি 'আলা জিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি 'ইবাদাতিক। [আবু দাউদ- ১৫২২]
🔸 ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পরে ৩ বার “রদ্বীনা- বিল্লা-হি রব্বা-, ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনা- ওয়াবি মুহাম্মাদিন রসূলা- [ﷺ]” পাঠ করা। [সুনানে আবু দাউদ- ৫০৭৪]
🔹 ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর ১ বার “সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার” পাঠ করা। [মিশকাত- ২৩৩৫]
🔲 “আল্ল-হুম্মা আংতা রব্বী, লা- ইলাহা ইল্লা আংতা খলাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুক, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্ব‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিং শার্রিমা ছনা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ লাকা বিযাম্বী, ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা- ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আংত্”।
⭕ জিনের আছর, বদনজর, কু-ফ-রী কালাম, জাদু টোনা এবং বিষধর প্রাণীর ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে রাসূল সল্লল্লহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর নিম্নোক্ত দোয়াগুলো পাঠ করতেন।
🔸 সূরা “ইখলাস”, “ফালাক” এবং “নাস” ১ বার করে পাঠ করা। তবে ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর প্রতিটি সূরা ৩ বার করে পাঠ করা। [আবু দাউদ- ১৫২৩]
🔹 ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর ৩ বার পাঠ করা “আ'উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মা-তি, মিং- শাররি মা খলাক্ব”। [তিরমিযি- ৩৫৫৯]
🔸 ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর ৩ বার পাঠ করা, “বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা- ইয়াদুররু মা'আসমিহী, শাইউং ফিল আরদ্বী ওয়ালা- ফিসসামা-ই, ওয়াহুওয়াস সামি'উল 'আলীম”। [তিরমিযি- ৩৩৩৫]
🔹 ফজর এবং মাগরিবের নামাজের পর ৭ বার পাঠ করা “হাসবিয়াল্ল-হু লা- ইলা-হা ইল্লাহু, 'আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়াহুয়া রব্বুল 'আরশীল 'আউযীম”। [আবু দাউদ- ৩২১]
⭕ [ ' ] এই চিহ্নটি দ্বারা আরবী হরফ “আইনের” উচ্চারণ উদ্দেশ্য। তাই এই চিহ্নের জায়গাগুলোতে গলার ভিতর থেকে “আইনের” উচ্চারণ করতে হবে। আর [ - ] এই চিহ্নটি দ্বারা ১ আলিফ টান দিয়ে পড়াকে বুঝানো হয়েছে।
🔲 মহান আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সবাইকে নিয়মিত আমলগুলো করার তৌফিক দান করুন, আমিন 💞✅

Saturday, March 15, 2025

রমজানে চারটি কাজ বেশি বেশি করতে বলেছেন নবীজী সা:

🔰 রমজানে চারটি কাজ বেশি বেশি করতে বলেছেন নবীজী সা:

সালমান (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা চারটি কাজ বেশি বেশি করো। দুটি কাজ এমন—যার মাধ্যমে তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারবে। আর দুটি কাজ এমন—যা করা ছাড়া তোমাদের উপায় নেই; তোমাদের অবশ্যই করতে হবে। ’ (সহিহ ইবনে খোজায়মা, হাদিস : ১৭৮০)

✅ যে দুটি আমল বেশি বেশি করলে আল্লাহ খুশি হন

১. ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ : এটি বেশি বেশি পাঠ করা। এটি আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি আমল।

২. ইস্তেগফার : গুনাহ থেকে নিজেকে পবিত্র করার বড় মাধ্যম হলো ইস্তেগফার।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তাদের বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। ’ (সুরা : নুহ, আয়াত : ১০)

✅ দুটি কাজ এমন—যা করা ছাড়া উপায় নেই; অবশ্যই করতে হবে।

৩. জান্নাত চাওয়া : মাহে রমজানের পবিত্র সময়ে আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি বেশি জান্নাত প্রার্থনা করা।

৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া।

Friday, March 14, 2025

দু'আ কবুল হওয়ার ২৯টি স্থান, ক্ষেত্র ও সময়ঃ

🤲দু'আ কবুল হওয়ার ২৯টি স্থান, ক্ষেত্র ও সময়ঃ🤲

১)সুরা ফাতিহা পাঠ করার পর, সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করে দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়।
(মুসলিম-৮০৬)

২) অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দু'আ, কোন মুসলিমের অগোচরে অন্য মুসলিমের জন্য দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (মুসলিম -৬৮২২)

৩) জালিমের বিরুদ্ধে মাজলুম ব্যক্তির দু'আ কবুল হয়। (তিরমীযি-৩৪৪৮)

৪) মা-বাবা তার সন্তানের জন্য দু'আ করলে দোয়া কবুল হয় ৷ (তিরমীযি-৩৪৪৮)

৫) নেককার সন্তানের দু'আ কবুল হয়। (বাবা-মায়ের জন্য তাদের মৃত্যুর পর)। (আবু দাউদ-২৮৮০)

৬) আরাফাতের ময়দানে দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (তিরমীযি-৩৫৮৫)

৭) বিপদগ্রস্ত অসহায় ব্যক্তির দু'আ তাড়াতাড়ি কবুল হয়। (সূরা নমল ৬২,৫৭ ও সূরা ইসরার ৬৭ নাম্বার আয়াত)

৮) সেজদায় দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (নাসায়ী১০৪৫)

৯) হজ্জের স্থানসমূহের দু'আ তাড়াতাড়ি কবুল হয়। যেমন: আরাফাহ, মুজদালিফা, মিনা...। (ইবনে মাজাহ-২৮৯২)

১০) হজ্জ করা অবস্থায় হাজ্জীর দু'আ কবুল হয়। (ইবনে মাজাহ-২৮৯৩)

১১) উমরাহ করার সময় উমরাহকারীর দু'আ কবুল হয়। (নাসায়ী-২৬২৫)

১২) আযানের পর দু'আ কবুল হয়। (তিরমীযি-২১০)

১৩) ক্বিতাল চলাকালীন সময় দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (আবু দাউদ-২৫৪০)

১৪) বৃষ্টি বর্ষণকালে দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (আবু দাউদ-২৫৪০)

১৫) শেষ রাতের দু'আ, তাহাজ্জুদের সময়কার দু'আ কবুল হয়। বুখারী-১১৪৫)

১৬) জুম্মার দিনে দু'আ কবুল হয়, আসরের শেষ দিকে তালাশ করার জন্য নির্দেশ আছে। (নাসায়ী-১৩৮৯)

১৭) লাইলাতুল ক্বদরের রাত্রির দু'আ কবুল হয়। (বুখারী ও মুসলিম)

১৮) আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়কার দু'আ কবুল হয়। (আহমাদ-১৪৬৮৯, মুসলিম -৬৬৮)

১৯) ফরয সালাতের শেষ অংশে দু'আ করলে কবুল হয়। (সালাম ফিরানোর আগে)। (রিয়াদুস স্বালেহীন ১৫০৮, তিরমীযি-৩৪৯৯)

২০),মুসাফিরের দু'আ কবুল হয়। (সফর অবস্থায়)। (তিরমীযি-৩৪৪৮)

২১) রোজাদার ব্যক্তির দু'আ কবুল হয়। (রোজা অবস্থায়) । (ইবনে মাজাহ-১৭৫২)

২২) ন্যায়পরায়ণ শাসকের দু'আ কবুল হয়। (তিরমীযি-২৫২৬)

২৩) দু'আ ইউনুস পাঠ করে দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (তিরমীযি-৩৫০৫) দোয়া ইউনুস: লা ইলাহা ইল্লা-আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতুম মিনাজ জোয়ালিমীন।

২৪) ইসমে আযম পড়ে দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (ইবনে মাজাহ-৩৮৫৬)
ইসমে আযম: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস-আলুকা বি-আন্না লাকাল হামদু লা-ইলাহা ইল্লা-আন্তা ওয়াহ'দাকা লা-শারীকা লাকাল মান্না-ন। ইয়া বাদীআস সামা-ওয়াতি ওয়াল -আরদ্বি ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম। ইয়া হা'ইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম। (নাসাঈ-১৩০০)
[হাদিস শরীফে মোট তিনটি ইসমে আযম এসেছে, যে কোন একটি পড়লেই হবে, তবে এটিই বেশি প্রচলিত]

২৫) বিপদে পতিত হলে যে দু'আ পড়া হয় (ইন্না লিল্লা-হি... রাজিউন) এবং ( আল্লা-হুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি ওয়া ওয়াখলিফলী খইরাম মিনহা...) তখন দু'আ কবুল হয়।
(মিশকাতুল মাসীবাহ-১৬১৮, মুসলিম -৯১৮)

২৬) জমজমের পানি পান করার পর দু'আ করলে কবুল হয়। ( ইবনে মাজাহ-৩০৬২, আহমদ৩/৩৫৭)

২৭) নির্যাতীত ব্যাক্তি দু'আ করলে দু'আ কবুল হয়। (তিরমীযি-৩৪৪৮)

২৮) যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ চাইবে (দোয়া করবে), কেননা সে একটি ফেরেশতা দেখেছে। (বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৬/৩৫০, নং ৩৩০৩; মুসলিম, ৪/,২০৯২, নং ২৭২৯)

২৯) দু'হাত তুলে দোয়া করা, কারণ আল্লাহ বান্দার খালি হাত ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। (আবু দাউদ-১৪৮৮)

🤲🤲🤲হে আল্লাহ! আমাদের সবাইকে বেশি বেশি দোয়া করার তাওফিক দিন, এবং আমাদের সবার দোয়া কবুল করে নিন-আমীন ইয়া রব💙

Tuesday, March 11, 2025

মৃত্যুকালীন মানুষের কষ্ট কেমন হয়?



মৃত্যুকালীন মানুষের কষ্ট কেমন হয়?

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত নবী করিম (সা:) বলেছেন তোমরা বনি ইসরাইল থেকে ঘটনা বর্ণনা কর এতে কোন সমস্যা নেই। কেননা বহু অদ্ভুত ঘটনা তাদের মাঝে ঘটেছে। ( বুখারী, তিরমিজি, আবু দাউদ,) 

এরপর নবী করিম সাঃ একটি ঘটনা বললেন,

বনি ইসরাইলের কিছু লোক একবার এক রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এক কবরস্থানের কাছে এসে বলল, এখন আমরা সবাই নামাজ পড়বো এবং আমাদের রবের কাছে দোয়া করব, যেন তিনি আমাদের সামনে এখন কোন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করে দেন।

 আর সে যেন আমাদের কাছে মৃত্যু সম্পর্কে কিছু খবর জানায় তারপর তারা নামাজ পড়লো এবং দোয়া করলো। মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের দোয়া কবুল করলেন। আল্লাহু আকবার 
 
তখন একটি কবর থেকে এক ব্যক্তি মাথা তুলে বলল, হে লোকেরা! তোমরা কি চাও? ৯০ বছর আগে আমি মৃত্যুবরণ করেছি । এখনো মৃত্যু যন্ত্রণা আমার থেকে দূর হয়ে যায়নি এখনো আমি তার কষ্ট অনুভব করি। 

তোমরা আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কর, আমি দুনিয়াতে যে অবস্থায় ছিলাম মহান আল্লাহতালা সে অবস্থায় তিনি আমাকে ফিরিয়ে নেন। 
এবং সেই লোকটির কপালে ছিল নামাজের সিজদার দাগ।

(ইমাম আহমদ রচিত "কিতাবুয যুহদ" পৃষ্ঠা নাম্বার - ২৩)

Monday, March 10, 2025

ইন্না-লিল্লাহ!কি ভ*য়ং*ক*র সংবাদ দেখুন,আমার আত্মা কেঁপে উঠেছে,ভয়ে কাঁপছি!এটা এড়িয়ে যাবেন কিভাবে?




ইন্না-লিল্লাহ!কি ভ*য়ং*ক*র সংবাদ দেখুন,আমার আত্মা কেঁপে উঠেছে,ভয়ে কাঁপছি!এটা এড়িয়ে যাবেন কিভাবে?
________
গাইয়ুন! 

আপনি কি জানেন গাইয়ুন কি?

ইবনে মাসুদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন গাইয়ুন হল জা*হা*ন্না*মে*র এক অত্যন্ত গভীর ও ভয়ংকর উপত্যকার নাম,কেন এই উপত্যকা এত ভ*য়ং*ক*র এত জঘন্য, 
জাহান্নামে মানুষের আকার হবে অনেক বড়,বসা অবস্থায় এক জা*হা*ন্না*মী*র আকার হবে প্রায়৪০০কিলোমিটার! তার চামড়া এবং মাংস হবে অত্যন্ত পুরু।তার দেহে থাকবে অনেক মাংস,জাহান্নামের আ*গুনে এই মাংস পুড়ে যখন হাড় বেরিয়ে যাবে তখন তা আবার মাংস দিয়ে পূর্ণ করে দেওয়া হবে,দুনিয়াতে আমরা দেখছি মানুষ আ*গু*নে পুড়ে গেলে সেখানে পুঁজ জমে। 
জা*হা*ন্না*মে*র মানুষ বারবার আ*গু*নে পুড়বে আর বারবার পুঁজ জমা হবে,সেই পুঁজ কোথায় গিয়ে জমা হবে জানেন,তা জমা হবে জাহান্নামের গাইয়ুন উপত্যকায়,কারা থাকবে গাইয়ুনে,যারা সময় মতো,সঠিকভাবে,নিখুত ভাবে সালাত আদায় করেনি ! 
.__________
সাকার,
আপনি কি জানেন সাকার কি,
সাকার হল জা*হা*ন্না*মে*র আরেকটি জঘন্য উপত্যকার নাম,
সাকার হলো তাদের অবস্থান যারা দুনিয়াতে সালাত আদায় করবে না,
সাকারবাসীদের সম্পর্কে আল্লাহ সুবাহানুওতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, 
'আমি দাখিল করব সাকারে,তুমি কি জানো সে সাকার কি,যা জীবীতও রাখবে না আবার একেবারে মৃত করেও ছাড়বে না,গায়ের চামড়া ঝলসিয়ে দেবে।সেখানে নিয়োজিত আছে ১৯ জন ফেরেস্তা।‌'(সূরা মুদ্দাসসির:২৬-৩০)
._______
ওয়াইল!
আপনি কি জানেন ওয়াইল কি?
ওয়াইল জা*হা*ন্না*মে*র আরেকটি ভয়ানক উপত্যকা। 
'অতএব ওয়াইল সেসব সালাত আদায়কারীর জন্য যারা তাদের সালাত সম্পর্কে বেখবর।
(সূরা মাউন:০৪-০৫)

সাহাবীদের মতে ওয়াইল এমন একটি জায়গা যেখানে জা*হা*ন্না*মী*দে*র সাপ আর জীবজন্তুরা খেয়ে ফেলবে।তারপর তাদের দেহ পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসবে,পুনরায় সাপ আর জীবজন্তুরা তাদেরকে খেয়ে ফেলবে।পুনরায় দেহ ফিরে পাবে,এ চলতেই থাকবে। 
ওয়াইল সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাওতায়ালা আরও বলেছেন,
যখন তাদেরকে বলা হবে নত হও তখন তারা নত হয় না।সেদিন মিথ্যা আরোপকারীদের জন্য ওয়াইল হবে,
(মুরসালাত:৪৮-৪৯)
আল্লাহ জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে হেফাজত করুন।
             
                  ✍️________🤲আমিন🤲

Sunday, March 9, 2025

১৫টি মুনাজাত


১৫টি মুনাজাত। 


১) রাব্বানা আতিনা ফিদ্ দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াকিনা আযাবাননার (সুরাঃবাকারা,আয়াতঃ২০১)

২) রাব্বানা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইললাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানা কূনান্না মিনাল খাসিরীন।(সুরাঃআরাফ,আয়াতঃ২৩)

৩) রাব্বানা লা তুযিগ কুলূবানা বা'দা ইযহাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব। (সুরাঃআল-ইমরান,আয়াতঃ০৮)

৪) রাব্বানাগ ফিরলানা যুনূবানা ওয়া ইসরা'ফানা ফী আমরিনা ওয়া সাব্বিত আক্বদা মানা ওয়ানসুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরীন।(সুরাঃআল ইমরান,আয়াতঃ১৪৭)

৫) রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিইয়াতিনা কুররাতা আ'ইনিও ওয়াজ আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।(সুরাঃফুরকান,আয়াতঃ৭৪)

৬) রাব্বানা আফরিগ্ আলাইনা ছাবরাও ওয়া সাব্বিত আক্বদা মানা ওয়ানসুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরীন। 
(সুরাঃবাকারা,আয়াতঃ২৫০)

৭) রাব্বিজ আলনী মুকীমাছছালাতি ওয়ামিন যুররিইয়াতী রাব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দু'আ-ই।(সুরাঃ ইবরাহীম,আয়াতঃ ৪০)

৮) রাব্বানাগ্ ফিরলী ওয়ালি ওয়ালি দাইয়া ওয়ালিল মু'মিনীনা ইয়াওমা ইয়াক্বুমুল হিসাব।( সুরাঃইবরাহিম,আয়াতঃ৪১)

৯) রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাআনী ছাগিরাহ।(সুরাঃবনী ইসরাঈল,আয়াতঃ ২৪)

১০) রাব্বি যিদনী ইলমা।(সুরাঃত্বহা,আয়াতঃ১১৪)

১১) রাব্বিশ রাহলী ছদরী,ওয়া ইয়াসসিরলী আমরী, ওয়াহলুল উক্বদাতাম মিল লিসানী, ইয়াফক্বাহু ক্বওলী।(সুরাঃত্বহা,আয়াতঃ২৫-২৮)

১২) রাব্বানা তাকাব্বাল মিন্না 
ইন্নাকা আনতাস সামীউল আলীম।( সুরাঃবাকারা,আয়াতঃ ১২৭)

১৩) রাব্বানা ফাগফিরলানা যুনূবানা ওয়া কাফফির আন্না সাইয়ি আতিনা ওয়া তাওয়াফফানা মা'আল আবরার। ( সুরাঃ আল ইমরান,আয়াতঃ ১৯৩)

১৪) রাব্বানা ওয়াজ আলনা মুসলিমাইনি লাকা ওয়ামিন যুররিইয়াতিনা উম্মাতাম মুসলিমাতাল লাকা ওয়া আরিনা মানা সিকানা ওয়াতুব আলাইনা ইন্নাকা আন্তাত তাওয়াবুর রাহীম।(সুরাঃ বাকারা,আয়াতঃ ১২৮)

১৫) রাব্বানা ইন্নাকা রাউফুর রাহীম। 
(সুরাঃহাশর,আয়াতঃ১০)

Saturday, March 8, 2025

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন জিবরাঈল (আ.)-কে বললেন,

 নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন জিবরাঈল (আ.)-কে বললেন,

আপনি যতোবার আমার নিকট এসেছেন,
ততোবারই আপনার কপালে শোক ও
দুশ্চিন্তার ছাপ ছিলো? এর কারণ কি?
জিবরাঈল (আ.) নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম-এর প্রশ্নের জবাবে বললেন,
"জাহান্নাম সৃষ্টির পর থেকে
আমার ঠোঁটে, চোখে ও মুখে কখনো হাসি ফুটেনি।"
জাহান্নাম কেমন হবে?
১. জাহান্নামের গভীরতা এমন যে,
এর মুখ থেকে একটি পাথর ফেলে দিলে
জাহান্নামের তলদেশে পৌঁছাতে ৭০ বছর সময় লাগে। বিচারের দিন জাহান্নামকে ৭০ হাজার শিকল দ্বারা টেনে আনা হবে, যার প্রত্যেক শিকল ৭০ হাজার ফেরেশতা বহন করবেন।
২. জাহান্নামে চাঁদ এবং সূর্যকে নিক্ষেপ করা হবে আর জাহান্নামে তা অবলীলায় হারিয়ে যাবে।
৩. জাহান্নামবাসীদের শরীরের চামড়া
১২৬ ফুট পুরো করে দেওয়া হবে, যাতে করে আযাব অত্যন্ত ভয়াবহ কঠিন হয়। তাদের শরীরে আরও থাকবে তিল, যার এক একটি উহুদ পাহাড়ের সমান।
৪. প্রতিদিন জাহান্নামের আযাব পূর্বের দিন থেকে আরও তীব্র আর ভয়াবহ কঠিন করা হবে।
৫. জাহান্নামের খাদ্য হবে কাঁটাযুক্ত গাছ। আর পানীয় হবে ফুটন্ত পানি, পুঁজ ও রক্তের মিশ্রণ এবং উত্তপ্ত তেল। এরপরও জাহান্নামবাসীর পিপাসা এতো বেশি হবে যে, তারা এই পানীয় পান করতে থাকবে।
৬. জাহান্নামের এই ভয়াবহ কঠিন কল্পনাতীত আযাব অনন্তকাল ধরে চলতে থাকবে।
জাহান্নামবাসীরা এক পর্যায়ে জাহান্নামের দেয়াল টপকিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে, তাদেরকে লোহার হাঁতুড়ি দিয়ে আঘাত করে, পুনরায় জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হবে।
এই জন্যই বলছি, আমার ভাইবোনরা আসুন, আমরা দীনের পথে চলি, ইসলাম মেনে চলি, আমাদের কখন, কি হবে আমরা কিন্তু কেউ জানি না?কেউ আমার সাথে যাবে না, আমার হিসাব আমাকেই দিতে হবে! দুনিয়াটা একটা ধোঁকা ও লালসাময়।
তাই আসুন, আমরা পবিত্র কুরআন- হাদিসের আদেশ-নিষেধ ও শরিয়াহ মোতাবেক চলে, ভয়াবহ কঠিন জাহান্নাম থেকে বাঁচি, আমাদের পরিবারকে বাঁচাই ও সারাবিশ্বের মুসলমানদেরকে বাঁচাই।
হে আল্লাহ! আপনি আমাকে, আমাদের পরিবারকে ও সারাবিশ্বের সকল মুসলমানকে, ভয়াবহ কঠিন জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুণ। আমিন।

Friday, March 7, 2025

"হাদিসটা পড়ুন, খুশিতে কাঁন্না চলে আসবে আল্লাহপাক যে কত মহান!

"হাদিসটা পড়ুন, খুশিতে কাঁন্না চলে আসবে আল্লাহপাক যে কত মহান!


হযরত মুসা (আঃ) একদিন আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসা করলেনঃ
হে প্রভু! আমার অনুসারীদের মধ্যে কে সবচেয়ে বড় পাপি?" 

আল্লাহর উত্তরঃ "যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম এই পথ অতিক্রম করবে, সে ব্যক্তি-ই হলো তোমার অনুসারীদের মধ্যে বড় পাপি" 

আল্লাহর কথানুযায়ী হযরত মুসা (আঃ) বসে দেখছেন, কিছুক্ষণ পর দেখলেন এক ব্যাক্তি ছোট একটি ছেলেকে কোলে করে পথ অতিক্রম করছে। 
হযরত মুসা (আঃ) বুঝে ফেললেন এই সেই বড় পাপি

হযরত মুসা (আঃ) আল্লাহ কে বললেনঃ হে"প্রভু, এখন আমাকে সবচেয়ে নেকী মানুষটিকে দেখান।"

আল্লাহর উত্তরঃ "সূর্য ডুবার সাথে সাথে যে লোকটি তোমার পূর্বস্থান দিয়ে চলে যাবে সেই হইলো সবচেয়ে নেকী"

হযরত মুসা (আঃ) সূর্য ডুবার বেশ আগের থেকে বসে রইলেন যেই সূর্য ডুবছিলো দেখলেন সে সকালের ঐ ব্যাক্তি-ই ছোট ছেলেকে কোলে করে ফিরে যাচ্ছে। 

মুসা (আঃ) হতভম্ব হয়ে আল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ "প্রভু একই ব্যক্তি মহা পাপি আবার মহা নেকী" .

আল্লাহ বললেনঃ "হে- মুসা! সকালে যখন এই ব্যাক্তি ছেলেকে সাথে নিয়ে তোমাকে অতিক্রম করে জঙ্গলে প্রবেশ করলো, তখন কোলের ছেলেটি বাবাকে প্রশ্ন করে ছিলো, বাবা! 
এই জঙ্গল কতবড়? 
বাবা উত্তরে বলেছিলো,অনেক বড়। 

ছেলে আবার প্রশ্ন করলো, বাবা! জঙ্গল থেকে কি বড় কোনো কিছু আছে? 
তখন বাবা বলেছিলো, হ্যাঁ বাবা! ঐ পাহাড়গুলো জঙ্গল থেকে বড়। ছেলে পুনরায় প্রশ্ন করলো,পাহাড় থেকে কি বড় কিছু আছে? 
বাবা বললো, আছে, এই আকাশ। 

ছেলে আবার প্রশ্ন করলো, আকাশ থেকে কি বড় কিছু আছে? 
সেই ব্যক্তি বললো, হ্যাঁ, আমার পাপ এই আকাশ থেকেও বড়। ছেলে বাবার এ উত্তর শোনে বললো, বাবা! 

তোমার পাপ থেকে বড় কি কোনো কিছু নেই? 
তখন বাবাটি চিৎকার দিয়ে ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো আমার পাপ থেকেও অনেক অনেক বড় আমাদের আল্লাহর রহমত।

হে-মুসা! এই ব্যক্তির পাপের অনুভূতি ও অনুশোচনা আমার এতোই পছন্দ হয়েছে যে সবচেয়ে পাপি ব্যক্তিকে সবচেয়ে' নেককার ব্যক্তি বানিয়ে দিয়েছি।
মনে রেখো আমার শাস্তির হাত থেকে ক্ষমার হাত বহুগুন বড়। 

হে আল্লাহ আপনি আমাদের সকলকে পিছনের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে সামনের দিনগুলোকে সত্যপথে চলার তাওফিক দান করুন"
আমিন

রাসূল (সাঃ) বলেন, আল্লাহ ওই ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল করে দেন,যে আমার কোনো হাদিস শুনেছে। অতঃপর অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
আবু দাউদঃ ৫১৫

Thursday, March 6, 2025

বিয়ের উদ্দেশ্যে প্রেম করা কি জায়েজ..??

 

বিয়ের উদ্দেশ্যে প্রেম করা কি জায়েজ..??

~~~~~~~~~~
উত্তরঃ বিয়ের আগে ভিন্ন পুরুষের সাথে প্রেম ভালোবাসা হারাম। বরং বিয়ের পর স্বামীর সাথে ভালবাসবেন →
.
প্রেমিকঃ - আমি তোমাকে ভালোবাসি।
.
প্রেমিকাঃ - আমিও তোমাকে ভালোবাসি।
.
শয়তানঃ - আর আমি তোদের দুই জনকেই
ভালোবাসি!
.
Reference : রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
"যেখানে দু'জন বেগানা নারী-পুরুষ নির্জনে একত্রিত হয়, সেখানে তৃতীয়জন হয় শয়তান।"–
[সহীহ্ তিরমিযী, ১১৭১]
.
এখানে নির্জনে নারী-পুরুষ কে একত্রিত হতে স্পষ্টত নিষেধ করা হয়েছে।
.
এখন ধরুন, আপনি বা আমি যদি কারো সাথে মোবাইলে কথা বলি, সেটাও নির্জনে একত্রিত হওয়া নয় কি? কারন, আমরা মোবাইলে কথা বলার সময় নির্জনেই কথা বলি। নির্জনে
SMS আদান-প্রদান করি। এবং তখন দুজনের মধ্যে কোনোরুপ বাঁধা থাকে না। (যাদের প্রেম করার এক্সপেরিয়েন্স আছে তারা বিষয়টি ভালো ভাবেই বুঝবেন।
.
একসময় কথাবার্তা কতটা অশালীন মূহুর্তে পৌছায়)। যার দ্বারা মুখের ও অন্তরের যিনা হয়।
যা স্পষ্ট হারাম।
.
আল্লাহ বলেন, "তোমরা অশ্লীলতার ধারে কাছেও যেও না"–[আল ইসার ১৭:৩২]
এ বিষয়ে আরো দ্রষ্টব্য→ [সহিহ্ বুখারী: ৬৩৪৩ ও সহিহ্ মুসলিম:২৬৫৭]
.
অশ্লীলতা তো দূরের কথা, এক্ষেত্রে বিনা প্রয়োজনে শালীন ভাবে কথাবার্তা বলারও বৈধতা নেই মুহাররাম নারী-পুরুষের মধ্যে। না প্রেম হিসেবে, না বন্ধুত্ব আর না দোস্ত-দোস্ত বলে ডাকা। কোনোটার ই বৈধতা নেই।
.
আপনি কিভাবে অপর একটি মেয়েকে বা ছেলেকে "Love You Jan" বলার সাহস রাখেন..? আপনি তো মুসলমান তাইনা? একটা সাধারন মেয়ে বা ছেলে কিভাবে আপনার জান্ (জীবন) হতে পারে..?
আর যদি তাই হয়, তাহলে আপনি ১০০% শিরকের মধ্যে নিমজ্জিত আছেন।
.
ড. বিলাল ফিলিপ্স (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন, "স্রষ্টার চাইতে সৃষ্টিকে বেশি ভালোবাসার নাম ই শিরক।"
.
আপনি গার্লফ্রেন্ডের সাথে সারাদিনে ৩০-৪০ বার ফোন দিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে ৫ বার কথা বলার সময় পাচ্ছেন না। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি স্রষ্টার চাইতে সৃষ্টিকে বেশি পরোয়া করলেন। অবশ্যই অবশ্যই আপনি শিরক করলেন।
.
আবার কিছু ছ্যাঁকা খাওয়া পোলা-মাইয়া আছে। যারা প্রেমিক-প্রেমিকার স্মৃতিতে রাতে ঘুমাতে পারে না।
.
দিনের মধ্যে ৫-৭ টা ছ্যাঁকা খাওয়া পোষ্ট প্রসব করাই লাগবে ফেসবুকে। গার্লফ্রেন্ড-বয় ফ্রেন্ডের জন্য কেঁদে কেঁদে চোখ ভাসায়।
.
কিন্তু এইসব লাইলি-মজনুরা আল্লাহর কাছে একদিনও কাঁদে না। তারা কাঁদে না অত্যাচারিত মাজলুম রোহিঙ্গা ও সিরিয়া বাসীর জন্যও। এরাও শিরক করছে। আল্লাহর কাছে না কেঁদে, অবৈধ প্রেয়সীর জন্য
কাঁদছে।
.
সুতরাং কোনো non-মাহরাম (যার সাথে বিবাহ সম্পর্ক হালাল) নারী বা পুরুষের সাথে নির্জনে একত্রিত হওয়া যাবে না। না বাস্তবে, না virtual world এ, আর না মোবাইলে কথা বলার মাধ্যমে।
.
ইহা স্পষ্ট হারাম ও ব্যাভিচারের শামিল। ব্যভিচার না করেও আপনার আমলনামায় ব্যাভিচারের পাপ লিপিবদ্ধ হবে।
.
আর প্রেমবাজ শিরি-ফরহাদরা কিভাবে শিরকের মতো গুনাহ করছে, সেটাও স্পষ্ট।
আল্লাহ বলেন, "আমি আমার বান্দা দের যাকে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করবো, কিন্তু শিরকের গুনাহ
ব্যতীত।"--[আন নিসা, ৪৮]
.
অনেকে আবার পরিবারেরর অনুমতি নিয়েই প্রেম করে। ভবিষ্যতে তাদের বিয়ে দেওয়া হবে এরকমটা অনেক পরিবার থেকে ঠিক করে রাখা হয়।
.
আফসোস এসব মূর্খ পরিবারের জন্য!
যারা তাদের সন্তান কে যিনা করার অনুমতি দিয়ে দিলো এবং নিজেরাও যিনার পাপে জর্জরিত হলো। (প্রেম করা এবং অতীব প্রয়োজন ছাড়া কথা বলাও
যে ব্যভিচারের শামিল তা আগেই প্রমান করা হয়েছে)।
আরেকটা কথা মনে রাখা উচিৎ,
.
"বিয়ের উদ্দেশ্যে যদি প্রেম করা বৈধ হয়, তাহলে হজ্ব করার উদ্দেশ্যে ব্যাংক ডাকাতি করাও বৈধ।"
(নাউজুবিল্লাহ্)
.
অতএব, পরিবারিক, ব্যক্তিগত ও সামাজিক ভাবে প্রেম নামক ব্যভিচার কে প্রতিরোধ করুন।
.
ছ্যাকাঁ খাওয়া player গুলা প্রিয়/প্রিয়ার জন্য কান্নাকাটি বন্ধ করুন। জান, প্রান, টুনি পাখি
এমনকি দোস্ত বলে ডাকাও বন্ধ করুন।
.
বিঃদ্রঃ এতসব জানার পরেও, শোনার পরেও কেউ যদি এ পথ থেকে ফিরে আসার চেষ্টা না করে, তাহলে বু্ঝতে হবে সে মুসলমান কি না তাতে সন্দেহ আছে। তার মুসলিম হওয়াতে ঘাটতি আছে।
.
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে সহ সবাইকে হেদায়েত নসিব করুন। তরুন-তরুনীদের পার্কের দিক থেকে দ্বীনি খেদমতের পথে ধাবিত হওয়ার তৌফিক এনায়েত করুন। আমিন!

Wednesday, March 5, 2025

মেয়েদের মুখ ঢাকা কি আসলেই জরুরী?




মেয়েদের মুখ ঢাকা কি আসলেই জরুরী?


ﻭﻛﺎﻥ ﻳﺮﺍﻧﻲ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﺤﺠﺎب

“তিনি আমাকে পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার আগে দেখেছিলেন!” - (সহিহ বুখারী)

বাক্যটি খুব ভাল ভাবে লক্ষ্য করুন। ইফকের ঘটনা বলতে গিয়ে আয়েশা (রা.) এ কথাটি বলেছিলেন। যখন কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি গাছের নীচে ঘুমিয়ে পড়লেন, সফওয়ান (রা.) তাকে দেখে চিনে ফেলেছিলেন।

তিনি আয়েশা (রা.) কে কীভাবে চিনলেন? অথচ একজন গাইরে মাহরাম পুরুষের তো কোন মহিলাকে দেখে চিনার কথা না! শ্রোতাদের মনে এ প্রশ্ন উদয় হতে পারে। এজন্য আয়েশা (রা.) সেটা স্পষ্ট করে দিলেন, পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার আগে আয়েশা (রা.) কে তিনি দেখেছিলেন। তাই চিনতে পেরেছেন।

পর্দার বিধান নাযিলের আগে এবং পরে, চেহারা যদি পর্দার ভেতর না থেকে থাকে, বরং রাসূলের (সা.) যুগে মুখ খোলা রাখাটাই যদি সাধারণ প্র্যাকটিস হয়ে থাকে, আয়েশা (রা.) এর এই বক্তব্যের কী অর্থ দাঁড় করাবেন আপনি? যদি চেহারা পর্দার মধ্যে না হয়, তাহলে আয়িশা (রা.) তো সাধারনভাবে বলে দিতেন, চেহারা দেখে চিনেছে। এত ক্ল্যারিফিকেশনের কী প্রয়োজন ছিল?

জায়েজ নাজায়েজ দিয়ে বিবেচনা না করে, হিজাব সেভাবেই করুন, যেভাবে রাসূলের যুগের মহিলা সাহাবিরা করেছেন। আপনি এরকম একটি হাদিসও দেখাতে পারবেন না, যেখানে রাসুলের স্ত্রী কন্যারা গাইরে মাহরামের সামনে নিজেদের ফেইস খোলা রেখে কথা বলেছেন। 

নাবালেগ অবস্থায় আয়িশা (রা.) খেলা দেখার এমন কিছু হাদিস হয়তো পেশ করতে পারবেন বড়জোর, যেখানে তার বয়স ও উক্ত ঘটনা পর্দার বিধান নাযিলের পরে হওয়ার কোন সুনিশ্চিত প্রমাণ নেই। উল্টো রাসূলের সবচেয়ে প্রিয় মেয়ে ফাতিমা (রা.) ব্যপারে জানা যায়, মৃত্যুর পরও নিজেকে ঢেকে রাখার ব্যাপারে এতটা যত্নবান ছিলেন, অসিয়ত করে গিয়েছিলেন যেন তাকে রাতের অন্ধকারে দাফন করা হয়। মিলিয়ে দেখুন, তাদের হিজাবের সাথে আপনার হিজাব, তাদের নিয়তের সাথে আপনার নিয়ত।

আপনি যেই পরিবেশের মানুষ, সেখানে পর্দা করা হয়তো আপনার কাছে অসম্ভবের কাছাকাছি। সেটার জন্য আপনার করণীয়, পরিবেশকে পাল্টানো, ইসলামকে কাস্টোমাইজ করা নয়। ফ্লেক্সিবিলিটি খোঁজা নয়। সমগ্র মুসলিম উম্মাহর সমস্ত আলেমগণ একমত, মুখ ঢাকা এবং না ঢাকার মধ্যে উত্তম, মুখ ঢাকা। আপনি সেই উত্তমকে ছেড়ে দিচ্ছেন কেন? আপনার দু-নি-য়া/চা-ক-রি/কাজ-কর্ম ক্ষ-তি-গ্রস্ত হবে বলে? এই জবাব কি-য়া-/ম-তে-র দিন ধো-পে টিকবে?!

এই দুনিয়া আমাদের আবাস নয়। এখানকার দুঃখ কষ্টও চিরস্থায়ী নয়। যে আল্লাহর জন্য কিছু ছাড়ে, আল্লাহ তাকে তার ছেড়ে দেয়া বস্তুর চেয়ে অনেক উত্তম কিছু মেলান। যে আল্লাহর জন্য কঠিন পথ বেছে নেয়, সেই পথ কোনদিনও কঠিন থাকে না, থাকতে পারে না। এটা আমার রবের আত্মমর্যাদা ও শানের খেলাফ। সাহায্য আসবেই, যদি আপনি হতাশ হয়ে না পড়েন...!


Monday, March 3, 2025

রমাদানের মহত্ব ও গুরুত্ব


|| মাহে রমাদান: রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস ||

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

পবিত্র মাহে রমাদান আমাদের মাঝে রহমত, মাগফেরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির সুসংবাদ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। এটি এমন একটি মাস, যার প্রতি মুহূর্ত বরকতময় ও কল্যাণময়। এই মাসেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের হেদায়েতের আলোকবর্তিকা আল-কুরআনুল কারীম নাযিল করেছেন, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য দিশারী।

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
"রমাদান হলো সে মাস, যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ ও (সত্য-মিথ্যার) পার্থক্যকারী।"
(সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫)

রমাদানের মহত্ব ও গুরুত্ব
রমাদান ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম। এ মাসে রোযা পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে ইরশাদ করেন—

"হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।"
(সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৩)

রমাদান মাস শুধুমাত্র উপবাস থাকার জন্য নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও নেক আমল বৃদ্ধির মাস।

রমাদানের শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য
১️⃣ কুরআন নাযিলের মাস
রমাদান মাসেই মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাযিল হয়, যা মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান।

২️⃣ লাইলাতুল কদরের বরকত
এই মাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

"নিশ্চয়ই আমি কদরের রাতে কুরআন নাযিল করেছি। তুমি কি জানো, কদরের রাত কী? কদরের রাত হলো হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।" (সূরা আল-কদর: ১-৩)

৩️⃣ রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস
হাদিসে এসেছে, রমাদানের প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফেরাতের এবং শেষ দশ দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তির।

৪️⃣ শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন—
"যখন রমাদান মাস শুরু হয়, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়।" (বুখারী: ১৮৯৯, মুসলিম: ১০৭৯)

৫️⃣ গুনাহ মাফ ও জান্নাত লাভের সুযোগ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন—
"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমাদানের রোযা রাখে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" (বুখারী: ২০১৪, মুসলিম: ৭৬০)

রমাদানের আমল ও করণীয়
✅ রোযা রাখা: ফরজ রোযা পালনের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করা।
✅ তারাবীহ নামাজ আদায় করা: রাসূল (ﷺ) ও সাহাবারা তারাবীহ পড়তেন।
✅ কুরআন তিলাওয়াত করা: এই মাস কুরআন তিলাওয়াতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
✅ ইস্তিগফার করা: আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা।
✅ সদকা-দান করা: গরীব-অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো।
✅ ইফতার করানো: রাসূল (ﷺ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।" (তিরমিজি: ৮০৭)
✅ লাইলাতুল কদরে ইবাদত করা: এই রাতে বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদত করা।

রমাদান আমাদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা ও জান্নাত লাভের এক অনন্য সুযোগ। আসুন, আমরা সবাই এই পবিত্র মাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগাই, গুনাহ থেকে বিরত থাকি, বেশি বেশি নেক আমল করি এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে রমাদানের ফজিলত লাভের তৌফিক দান করুন, আমিন!


Sunday, March 2, 2025

তারাবির নামাজের দোয়া ও মোনাজাত


 (.তারাবির নামাজের দোয়া ও মোনাজাত.)

(.তারাবি নামাজের দোয়া.)

আমাদের দেশে তারাবি নামাজের জন্য বহুল প্রচলিত একটি দোয়া রয়েছে। দোয়াটি ব্যাপকভাবে পড়ার কারণে অনেক মানুষেরই তা মুখস্থ। প্রতি চার রাকাত পরপর যে দোয়াটি পড়া হয় তা হলো—
سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ * سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ
উচ্চারণ : ‘সুবহা-নাজিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহা-নাজিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল জাবারূতি। সুবহা-নাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা-ইয়ানা-মু ওয়ালা- ইয়ামুতু আবাদান আবাদা; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রব্বুনা-ওয়া রব্বুল মালা-য়িকাতি ওয়াররূহ।’
তারাবি নামাজ শেষে সম্মিলিতভাবে মোনাজাত করার প্রচলন রয়েছে। অনেকে আবার ব্যক্তিগতভাবে মোনাজাত করে থাকেন। মোনাজাত সমবেত হোক আর একাকী, যে কোনো দোয়া দিয়ে তা করা যেতে পারে।

(তারাবি নামাজের মোনাজাত)

মনের কথাগুলো যেভাবে ইচ্ছা আল্লাহর কাছে তুলে ধরায় কোনো অসুবিধা নেই। তবে তারাবি নামাজের দোয়ার মতো মোনাজাতেরও একটি ব্যাপক প্রচলিত দোয়া রয়েছে। ইচ্ছা করলে এ দোয়াও পড়া যায়। আর তা হলো—
اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ - اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না-নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খ-লিক্বল জান্নাতা ওয়ান্নার। বিরাহমাতিকা ইয়া-আজিজু ইয়া-গাফফারু, ইয়া-ক্বারিমু ইয়া-সাত্তারু, ইয়া-রাহিমু ইয়া-জাব্বারু, ইয়া-খলিকু ইয়া-বারর। আল্লাহুম্মা আজিরনা-মিনান্নার। ইয়া-মুজিরু, ইয়া-মুজিরু, ইয়া-মুজিরু। বিরহমাতিকা ইয়া-আরহামার রাহিমিন।’
রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মহাঅনুগ্রহের মাস। অন্য মাসের তুলনায় এ মাসের মর্যাদা অনেক গুণ বেশি। আর রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ২০ রাকাত তারাবির নামাজ।

Saturday, March 1, 2025

রমাদান মাসের ২৭ টি স্পেশাল আমল

 


🟥 রমাদান মাসের ২৭ টি স্পেশাল আমল :

১) রমাদানের চাঁদ দেখা।
২) রমাদানের রোজা রাখা।
৩) তারাবিহর নামাজ পড়া।
৪) সাহরী খাওয়া।
৫) দেরি করে সাহরি খাওয়া।
৬) ইফতার করা।
৭) ইফতার তাড়াতাড়ি করা।
৮) ইফতারের সময় দুআ করা।
৯) ইফতার ও সাহরিতে খেজুর খাওয়া।
১০) রোজা অবস্থায় দুআ করতে থাকা।
১১) সকল প্রকার গোনাহ বর্জন করা।
১২) ঝগড়া পরিহার করা।
১৩) মিথ্যা ত্যাগ করা।
১৪) বেশি বেশি ভালো কাজ করা।
১৫) বেশি বেশি ইস্তেগফার করা।
১৬) মিসওয়াক করা।
১৭) উমরা করা।
১৮) তাহাজ্জুদ পড়া ও দুআ করা।
১৯) রোজাদারকে ইফতার করানো।
২০) বেশি বেশি সাদাকা করা।
২১) শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগী করা।
২২) শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করা
২৩) রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল ক্বদরের দুআ করা।
২৪) সদকাতুল ফিতর আদায় করা।
২৫) কুরআন তেলাওয়াত বেশি বেশি করা।
🤲২৬) অন্যকে কুরআন শুনানো।
২৭) ইতেক্বাফ করা।
আল্লাহ্ আমাদেরকে যথা সাধ্য আমল করার তাওফীক দান করুন ❤️❤️🤲

Friday, February 28, 2025

আল্লাহর যিকিরের বয়ান (১নং পর্ব)

📖 আল্লাহর যিকিরের বয়ান (১নং পর্ব)


হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যিকিরের দ্বারা যে জিহ্বা তাজা রাখবে, হাশরের দিন সে হাঁসতে হাঁসতে বেহেশতে চলে যাবে। যে পাত্রে যা থাকে, কাত করলে তাই পড়ে। ঠিক যেই ব্যক্তির দিলে আল্লাহ্ যিকির থাকবে। মউতের সময় তার কলব থেকে তার জবান থেকে আল্লাহ্

যিকির বাহির হয়ে যাবে। 

مست عاشق مست معشوق + پادشایان مال مست

(মস্তে আশেক মস্তে মাশুক পাদশাহা মালে মস্ত) দুনিয়াতে সবাই পাগলের দল, কেউ ছেলেমেয়ের পাগল, কেউ সম্মানের পাগল, কেউ আরামের পাগল, কেউ ভাল-ভাল খাদ্যের পাগল, কেউ মালের পাগল, কেউ টাকার পাগল, কেউ পোশাক ও অলঙ্কারের পাগল কেউ ঘর-বাড়ী দালান  কোঠার পাগল। আর এক দল মানুষ হইলো আল্লাহর পাগল। আহারে দুনিয়ার পাগলেরা! চক্ষু বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে সব খতম হয়ে যাবে, যাদের জন্য পাগল ছিলা কিছুই কাজে লাগবে না। আল্লাহ্ পাক বলবেন, যাদের জন্য - পাগল ছিলি তারা তোর খবর লউক, আমি তোর কোন খবর নিব না। যারা আল্লাহ্ পাগল তারা নামাজের পাগল, পর্দার পাগল, তালিমের পাগল, - যিকিরের পাগল। তারা চিন্তা করে কি কাজ করলে আল্লাহ পাক খুশি হবেন। দুনিয়ার পাগলদের তো হাশরের ময়দানে, তামার জমিনের উপরে সূর্যের গরমে, মাথার তালুটা টাস্ টাস্ করে ফেটে মগজগুলো উৎলাতে থাকবে, জিহ্বাটা ঝুলে নাভিস্থল পর্যন্ত পড়ে যাবে। ময়দানে সাড়া পড়বে পানি পানি বলে, তখন জাকেরিনরা,

عاشقان را روز محشر با قیامت کارنیست +

عاشقان را جز تماشائی جمال یار نیست

(আশেকাঁরা রোজে মাহশার বা কেয়ামত কারে নিস্ত, আশেকাঁরা জুষ তামাশায়ে জামালে ইয়ারে নিস্ত) অর্থাৎ, তখন আল্লাহ্ আশেকরা দৌড়াবে আর বলবে, আমার আল্লাহ কৈ? তখন আল্লাহ পাক তার সত্তর হাজার নূরের পর্দা উঠিয়ে কুদরতী হাত বাড়ায়ে বলবেন, আস আমার পাগলেরা আস দুনিয়াতে তোমাদেরকে খুব ঘুরায়েছি, আজ আর ঘুরাব না। আল্লাহর পাগলদের কিসের কবর আযাব, কিসের আবার হিসাব-নিকাশ 


"অর্থ:


আল্লাহ্ আল্লাহ্ কেয়া মুবারক নাম হায়, আল্লাহ্ আল্লাহ্ আশেকোঁকা কাম হায় 

আল্লাহ আল্লাহ যতই জপি ততই মধুর লাগে, আশেক যারা কেবল তারা আল্লাহ আল্লাহ জপে

اندر این راه میتراش و میخراش * تادم آخر دمے فارغ مباش

আন্দরী রাহ মী তরাশ ও মী খরাশ তা দমে আ-খের দমে ফা-রেগ মবাশ

অর্থঃ আল্লাহকে পাওয়ার এ পথে তোমাকে অবিরাম চেষ্টা প্রচেষ্টা - চালিয়ে যেতে হবে, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও উদাসীন থাকলে চলবে না।

- আল্লাহ্ দরজায় বসে তুমি এমন কাঁদা কাঁদো, অবোধ শিশুর মত কাঁদো। এমন এক দিন আসবে আল্লাহ্ পাক তোমাকে ক্ষমা করে দিবেন।

- আল্লাহ্ পাক বলেন, أَنَا جَلِيْسُ مَنْ ذَكَرَنِی )আনা জালিছু মান যাকারানী( বান্দারে তুমি আমার যিকিরে যখন বসে যাও, তখন আমিও কুদরতীভাবে তোমার সঙ্গে বসে যাই (আল্লাহর পাগল হতে পারলে মনে আসবে, দুনিয়ার সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে বেজার হতে পারে, আমি আল্লাহকে ছাড়তে পারি না, বেজার করতে পারি না। দুনিয়ার সবাইর হুকুম অমান্য করা - সম্ভব। আল্লাহ্র হুকুম অমান্য করা সম্ভব নয়। কবরে গেলে কেউ জিজ্ঞাসা করবে না, কবরটা আগুনের কুয়া হয়ে যাবে ৯৯টা সাপে কামড়াবে, শত চিৎকার মারলেও ছেলে-মেয়ে টাকা-পয়সা, বাড়ী-গাড়ী কেউ জওয়াব দিবে না। চক্ষু বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে এই দালানের কোঠা হতে সবাই ধরাধরি করে কবরে রেখে চলে আসবে, ঘরে এসে বাতি জ্বালাবে, আমার কবরে কেউ বাতি ■ দিবে না। তখন যদি আল্লাহ পাক খবর না নেন কে খবর নিবে? কবরে না - যেয়ে তো উপায় নেই। আল্লাহ পাক শান্তনা দেন-

لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي الْبِلَادِ ، مَتَاعٌ قَلِيلٌ ثُمَّ مَاؤُهُمْ -

جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمِهَاه .

লা ইয়াগুররান্নাকা তাকাল্লুবুল্লাযিনা কাফারু ফিল বিলাদ, মালাউন কালিলুন, ছুম্মা মাওয়া হুম জাহান্নামু ওয়া বিছাল মিহাদ)

ওহে আমার বিশ্বাসী মুমেনরা! কাফেরদের আরাম দেখে তোমরা কষ্ট পাইওনা। তারা দুনিয়াতে অল্প কাল ভোগ করবে। অতঃপর তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম এবং তা কতই না নিকৃষ্ট বিছানা।"

(সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ১৯৬)

ওদের নামাজ নাই, অজু গোসল নাই, রোজা নাই, পর্দা নাই, ঘুষ খায়, সূদ খায়, গান-বাজনা শুনে কত আমোদ করে। ছেলে-মেয়ের বিবাহে কত কত বেহুদা খরচ করে, করে নাজায়েয কাজ করে। তা দেখে তোমরা তা করোনা, ভুলে পড়ো না।

مَتَاعٌ قَلِيلٌ ثُمَّ مَا وَهُمْ جَهَنَّمُ

(মাতাউন কালিলুন ছুম্মা মাওয়াহুম জাহান্নাম)

"ওদেরকে অল্প কয়েক দিনের জন্য আরাম দেওয়া হয়েছে, এর পরের জায়গা হয়ে যাবে জাহান্নাম।"

(সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯৭)

তাই দুনিয়ার মহব্বতে পড়ে আল্লাহর মহব্বত ভুলিও না, চেষ্টা কর আর কান্দো যে, আল্লাহগো দুনিয়ার পাগল বানাইওনা। তোমার পাগল বানাইয়া লও। জমিন যেখানে নিচু থাকে পানি গড়ায়ে সেই জায়গায় যায়। তেমনি আল্লাহ্র দরবারে নিচু হয়ে যাও, কান্দ আর বল আমার চেয়ে গোনাহগার সারাজাহানে নাই, আল্লাহ্ তোমাকে বুঝি আমি পাইলাম না। তোমাকে তো আমি রাজী-খুশী করতে পারলাম না, আমার উপায় নাই। তখন আল্লাহ্ পাকের রহমত এসে ঐ নিচু জায়গায় ভরে যাবে। .

আল্লাহ্ পাক হাদীসে কুদসিতে বলেন,

أَنَا عِنْدَ الْمُنْكَرَةِ قُلُوبُهُمْ

(আনা ইন্দাল মুনকাছিরাতি কুলুবুহুম) "আমি ভাঙ্গা দিলের কাছে থাকি।"

আল্লাহ পাক কুরআন মাজীদে বলেন,

فَلْيَضْحَكُوا قَلِيلًا وَلْبَبْكُوا كَثِيرًا

(ফাল ইয়াদ হাকুক্কালিলাওঁ ওয়াল ইয়াবকু কাছিরা)

"বান্দারে হাস কম, কান্দ বেশী”।

(সূরা তাওবা, আয়াত: ৮২)

হাসিও না কান্দ বেশী ফালাও চোখের পানি, 
না কান্দিলে পাইবা না যে আল্লাহর মেহেরবাণী। 
আল্লাহর ভয়ে মহব্বতে কান্দিয়া যে বুক ভাসাইবে। 
তাহার চোখের পানি দোজখে পড়িলে, 
দোজখের আগুন তখন নিভিয়া যাইবে।”
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সা:


Thursday, February 27, 2025

পুরুষদের ধ্বংসের ৮টি কারণ

পুরুষদের ধ্বংসের ৮টি কারণ :


১. নেশায় আসক্তি (সিগারেট, মদ, জুয়া ইত্যাদি) 
"তোমরা নিজেদের হত্যা কর না" - (সুরাঃ-নিসা ২৯)

২. কাচা হলুদ ও লাল রঙের কাপড় পরিধান করা - (মুসলিমঃ ২০৭৭)

৩. পুরুষ হয়েও গোল্ড ব্যবহার করা - (ইবনে মাজাহঃ ৩৫৯৫, আবু দাউদঃ ৪০৫৭)

৪. যেসব পুরুষ নারীদের সাজগোজ অনুকরণ করে। নাক-কান ফোড়ানো অর্থাৎ, মহিলাদের চালচলন অনুকরণ করা পুরুষদের জন্য রাসূল (সঃ) এর অভিশাপ - (আবু দাউদঃ ৪০৯৭, ইবনে মাজাহঃ ১৯০৪)

৫. সিল্কের পোশাক বা রেশম পোশাক পরিধান করা - (নাসাঈঃ ৫১৪৪)

৬. পুরুষের টাকনুর নিচে প্যান্ট পরা হারাম এবং রাসূল (সঃ) বলেছেন, এটা জাহান্নামি পুরুষের লক্ষণ - (আবু দাউদঃ ৩১৪০)

৭. ইচ্ছাকৃত ভাবে জামায়াতে সালাত আদায় না করা এবং ফরজ সালাত আদায়ে অলসতা। কেননা, "যে ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ছেড়ে দিলো সে কুফরি করলো" - (মুসলিমঃ ৮২, তিরমিজিঃ ২৬১৯)

৮. দৃষ্টি সংযত না রাখতে পারা (গান বাজনা শোনা, মিউজিক এর সাথে লিপ্ত থাকা)
"নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তকরন এদের প্রত্যেকটির হিসাব দিতে হবে" - (সূরা বনী ইসরাঈলঃ ৩৬)

আল্লাহ আপনি আমার বাবা ভাইদের এবং পুরুষ সবাইকে হেদায়েত দান করুন আমিন।